সফল
গবেষক, শিক্ষক, নারী সংগঠক ও সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত প্রখর ব্যাক্তিত্বের অধিকারী
ড. সাইদা আখতার বেগম ১৯৫২ সালে তার পিতার কর্মস্থল টাংগাইল জেলার করটিয়াতে
জন্মগ্রহন করেন। তার গ্রামের বাড়ী টাংগাইল জেলার মধুপুর উপজেলার টেংরি গ্রামে। তার
বাবার নাম মৌলভী মনিরুদ্দিন আহমেদ-যিনি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দীর্ঘদিন
নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই মহীয়সী নারী চার ভাই-বোনের মধ্যে
সবার ছোট।
ড.
সাইদা আখতার বেগম এর শিক্ষা জীবন শুরু হয় মধুপুর ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে, যে
স্কুলটি তার বাড়ী থেকে ৩ কিলোমিটার দূরবর্তী ছিল। তিনি ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে সেই
স্কুল থেকে প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করে টাংগাইল সরকারি গার্লস হাই স্কুলে ষষ্ট
শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে এই স্কুল থেকে এস.এস.সি. এবং পরে ১৯৬৯
খ্রিষ্টাব্দে কুমুদিনী সরকারী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. কৃতিত্বের সাথে পাস করেন। পরে
তিনি ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের সমাজকল্যাণে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি
হন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন না করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের
রক্তদান কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন, যা ঐ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে
ছাত্র-শিক্ষকগণ গোপনে পরিচালনা করেছিলেন।
বাংলাদেশ
স্বাধীন হওয়ার পর আবার তনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন এবং ১৯৭৩-৭৪ খ্রিষ্টাব্দে
বি.এ. অনার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সমাজকল্যাণ বিষয়ে এম.এস.সি.
ডিগ্রী লাভ করেন। এ সময় তিনি সমাজকল্যাণ গবেষণা ইন্সটিটিউটে সমাজকল্যাণ বিষয়ক
সম্পাদিকা ছিলেন এবং সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটে অবৈতনিক নৈশ বিদ্যালয় স্থাপনে অগ্রণী
ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মাস্টার্স পাসের পর মহাখালী কলেরা হাসপাতালে
গবেষণা কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জানুয়ারী মাসে ঢাকার তেজগাও
কলেজে সমাজকল্যাণ বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি তেজগাও কলেজের একজন
প্রতিষ্ঠাতা প্রভাষক। তিনি ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে পাব্লিক সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ন
হয়ে কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে নিয়োগ পান। কিন্তু ব্যাক্তিগত কারণে ঐ কলেজে
যোগদান না করে তেজগাও কলেজেই কর্মরত থাকেন। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে চিকিতসা সমাজকর্মী
হিসেবে সমাজসেবা মন্ত্রনালয়ের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কিন্তু সে চাকরীতেও তিনি
যোগদান করেননি। বর্ত্মানে তিনি তেজগাও কলেজে সমাজকল্যাণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান
হিসেবে দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে কর্মরত আছেন।
শিক্ষা
সেবায় নিবেদিত প্রাণ ড. সাইদা আখতার বেগম ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে এম.ফিল. ডিগ্রি লাভ করেন। তার গবেষনার বিষয় ছিল ‘ঢাকা শহরের বস্তির নারী ও
উন্নয়ন সমীক্ষা’। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ থেকে
পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেন। তার থিসিসের বিষয় ছিল-‘ঢাকা শহরের নারী শ্রমিকদের
আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং সামাজিক মরযাদা’-একটি নৃ-তাত্বিক সমীক্ষা। এছাড়াও তিনি
সমাজকর্মী হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জড়িত আছেন। তিনি
শেরে বাংলা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে
এইচ আই ভি/ এইডস প্রতিরোধে Piact নামক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাস্টার্স ট্রেইনার
হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭৮
খ্রিষ্টাব্দে টাংগাইল জেলার সদর থানার মো. হযরত আলী সাহেবের দ্বিতীয় পুত্র মো.
মিজানুর রহমানের সংগে পরিণয়সুত্রে আবদ্ধ হন। মো. মিজানুর রহমান ঢাকার মহাখালী
উদরাময় হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। ডেনমার্কের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন
ফেলো। প্রফেসর ড. সাইদা আখতার বেগম দুই পুত্র সন্তানের জননী। প্রথম পুত্র- সাইমুর
রহমান একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও এম.বি.এ.। তিনি একটি বেসরকারী সংস্থায়
ম্যনেজার হিসেবে কর্ম্রত রয়েছেন। তিনি বিবাহিত এবং এক পুত্র সন্তানের জনক। ছোট
ছেলে- ফান্তাসির রহমান ও এবং এ লেভেল শেষ করে বর্তমানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল
ইউনিভার্সিটির বি বি এ এর অধ্যয়নরত।
প্রফেসর
ড. সাইদা আখতার বেগম ৩৫ বছর যাবত অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে তেজগাও কলেজে অধ্যাপনা
করছেন। তিনি দুই বার অত্র কলেজের গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেছেন। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট অত্যন্ত নিষ্ঠাবান শিক্ষকনেত্রী হিসেবে
পরিচিত।
তিনি
বর্তমানে ঢাকায় মিরপুরে নিজস্ব বাসভবনে বসবাসরত। এই মহীয়সী নারী অত্যন্ত সংগ্রামের
মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন এবং অধ্যাপনায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ‘জেন্ডার সমতা’ বিষয়ে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন