ইতিহাস ও ঐতিহ্যে মধুপুর ও ধনবাড়ী


ঢাকা বিভাগের টাংগাইল জেলায় অবস্থিত বংশাই-ঝিনাই নদী বিধৌত, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ব মধুপুরধনবাড়ী-টাংগাইল ওয়ান। সাড়ে পাচ হাজার বছর আগে এই অঞ্চলের বেশীরভাগ এলাকাই ছিল সমুদ্রে গর্ভে নিমজ্জিত। শুধু মধুপুর, ভাওয়াল বনাঞ্চল শৈলশিলার উচ্চতা নিয়ে বিরাজমান ছিল।ধারনা করা হয় যে, সোমেশ্বরী নদীরপাড়ের গারোপাহাড় থেকে শুরু করে মধুপুর বনাঞ্চল হয়ে ভাওয়াল গড় অবদি যে পাহাড়মালা রয়েছে তাই বাংলাদেশের প্রাচীনতম স্থল্ভাগ।ঐতিহাসিকগনের মতে, প্রাচীনযুগে এই অঞ্চল কামরুপ রাজ্যের অংশ বিশেষ ছিল। সে বংশের রাজা নৃপতি সেনের আমলে মধুপুর ধনবাড়ী অঞ্চল সেনদের অধীনে আসে। 

এই অঞ্চলে মুসলমানদের রাজত্ব শুরু হয় চতুর্দশ শতাব্দীর শেষদিকে।সুলতান ফথরুদ্দিন মোবারকশাহ (১৩৩৮-১৩৪৯) এই অঞ্চল তার অধীনে ছিল। ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দে গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহ কে যখন দিল্লীর সুলতান শেরশাহ পরাজিত করেন, তখন থেকে এই অঞ্চল্টি দিল্লীর শাসনে চলে যায়।
পলাশীর যুদ্বের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর প্রথম যুগে ১৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে নবাব শাহ সুজা প্রবর্তিত সরকার বাজুহারকে ৩টি রাজস্ব অঞ্চলে ভাগ করে-(১) জমিদারি রাজশাহী, (২) আটিয়াদিগর ও (৩)জামালপুর, ঢাকা।১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে লর্ড ক্লাইভ দিল্লীর দ্বিতীয় শাহ আলমের নিকট থেকে ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানী প্রাপ্ত হলে বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। থখন থেকে এই অঞ্চল ঢাকার নায়েব নাজিমদের অধীন থেকে কোমাপ্নির শাসনাধীন চলে যায়। ব্রিটিশ রাজত্বকালে ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে এই অঞ্চল ময়মনসিংহ কালেক্টরেটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে আটিয়া, পিংনা ও মধুপুর(বর্তমান মধুপুর-ধনবাড়ী) থানা সমন্বয়ে আটিয়া মহকুমা হলে এই অঞ্চল আটিয়া মহকুমার অধীনে চলে যায়। তারপর ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে আটিয়া মহকুমা সদর টাংগাইলে স্থানান্তর হলে আটিয়া মহকুমা নামটি মুছে যায়-যা টাংগাইল মহকুমা নামে পরিচিত হয়। এই টাংগাইল মহকুমা ১ ডিসেম্বর ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ণাঙ্গ জেলা হলে এই মধুপুর(মধুপুর-ধনবাড়ী) উপজেলা টাংগাইল জেলাধীন হয়ে যায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন