নবাবজাদা সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী কর্মময় জীবন



যুগে যুগে সময়ের আবর্তে যে সব কীর্তিমান মহাপুরুষ মধুপুর-ধনবাড়ী তথা টাংগাইল ওয়ান এর মাটিতে জন্মেছেন তাদের মধ্যে রাজনীতিক, সমাজসেবক, স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিত্ব ধনবাড়ির বিখ্যাত জমিদার নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর দ্বিতীয় পুত্র নবাবজাদা সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী। তিনি ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ২০ সেপ্টেম্বর পৈতৃক নিবাসে জন্মগ্রহন করেন।
তিনি প্রথমে ঢাকার মাদ্রাসা ও পরে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। মাত্র একুশ বছর বয়সে কলকাতা ইনস্টিটিউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। সমাজসেবায় এখানথেকেই তার হাতেখড়ি।

এরপর তিনি বিভিন্ন জনহিতকর কাজে আত্মনিয়োগ করেন। নিষ্কলুষ ব্যক্তিত্বের জন্য ময়মনসিংহ জেলার অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট, জেল পরিদর্শক, পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যন ও জেলা বোর্ডের সদস্য হিসাবে তিনি স্বীয় যোগ্যতার পরিচয় দেন। তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমুলক কাজে নিয়োজিত থাকলেও রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

নবাবজাদা সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির একজন বিশিষ্ট নেতা হিসাবে বংগীয় আইন সভার সদস্য নিরবাচিত হন। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত আইনসভার উক্ত দলের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে কৃষক প্রজা পার্টির মনোনয়নে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ন হয়ে মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ ’র নিকট পরাজিত হন। পরে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। কলকাতা থেকে জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংগে মিলিতভাবে ‘ইত্তেহাদ’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীকে পরাজিত করে পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নিরবাচিত হয়ে প্রাদেশিক সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী হন।
১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ হতে প্রায় দশ বছর একাধিক্রমে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ ওয়র্কিং কমিটি ও পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পুনরায় পুর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিল্প মন্ত্রণায়লের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হন।

চলনে বলনে তিনি ছিলেন একজন মার্জিত রুচির সুপুরুষ। পাকিস্তান আমলে এবং স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের রাজনীতি ও সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন