ধনবাড়ী
একটি প্রাচীন জনপদ। সুলতানি আমলের হিন্দু সামন্ত্প্রধান ধনপতি সিংহের নামানুসারে
এই জনপদের নাম হয়েছে ধনবাড়ী। মোঘল সুবেদার ইসলাম খানের শাসনামলে তার নির্দেশে
সেনাপতি ইস্পিঞ্জার খা ওরফে ইনকান্দিয়ার খা ধনবাড়ী আক্রমন ও দখল করে নেন। এই পাঠান
শাসকেরা ধনবাড়ীর সুদৃশ্য মসজিদটি নির্মাণ করেন-যার স্থাপত্য শিল্প অপরুপ। মসজিদ
সংলগ্ন কবরস্থানে শায়িত ইস্পিঞ্জার খা, রাজা যশোধরের সেনাপতি ছিলেন। রাজা
যশোধরেরের মৃত্যুর পর ইস্পিঞ্জার খার পিতা ধনুয়ার খা ধনবাড়ীতে একটি স্বাধীন
জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।
পরবর্তীতে
আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে পাঠান শাসকের নিকট থেকে ধনবাড়ীর জমিদারি অর্পিত হয় সৈয়দ
খোদাবক্স চৌধুরীর নিকট। তিনি ছিলেন ধনবাড়ীর প্রখ্যাত জমিদার নবাব বাহাদুর সৈয়দ
নওয়াব আলী চৌধুরীর প্রপিতামহ। সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ছিলেন অভিবক্ত বাংলা ও আসামের
শিক্ষামন্ত্রী। ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাদের
মধ্যে তিনি অন্যতম। এছাড়াও তিনি ছিলেন মুসলিম লীগের প্রচিষ্ঠাতাদের একজন। ১৯১১
খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য চিতি লিখিত প্রস্তাবপেশ
করেছিলেন। তার সুযোগ্য পুত্র নবাবজাদা হাসান আলী চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান আমলের
একজন মন্ত্রী। ধনবাড়ী ‘নবাব প্যালেস’কে প্ররযটন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।
ধনবাড়ী
উপজেলার বলিভদ্র গ্রামটি অলিপুর ও গণিপুর নামের দুটি মৌজা নিয়ে গঠিত। ১৬২৮
খ্রিষ্টাব্দে বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর বংশধর শাহ সূফী হযরত সৈয়দ ওয়াহেদউল্লাহ (রহঃ) এই গ্রামে ধর্ম
প্রচারের উদ্দেশ্যে আস্তানা গড়ে তোলেন।পরে উনার দুই পুত্র হযরত অলিউল্লাহ
শাহ(রহঃ) ও হযরত গণিউল্লাহ শাহ(রহঃ) এর নামানুসারে অলিপুর ও গণিপুর মৌজা গড়ে উঠে।
উনারা ছিলেন ইসলামের জোশে বলীয়ান থেকে বলী এবং এবং নম্র-ভদ্রের ‘ভদ্র’ যোগে এই স্থানের
নাম হয়েছে বলিভদ্র। এইসব কামেল ব্যক্তিদের মাজারশরীফের স্মৃতিচিহ্ন এবং তাদের
বংশধরদের অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান।
বীরতারা-ধনবাড়ী
উপজেলার একটি গ্রামের নাম। এই গ্রামের নামকরণ হয়েছে ইংরেজ শাসন আমলে। বীরতারা
নামকরণের পিছনে রয়েছে এক ইতিহাস। এই গ্রামে তারা বিবি নামে ছিলেন এক সুন্দরী
কুমারী মেয়ে। ইংরেজ নীলকরেরা উনার বাবা ও ভাইকে অমানুষিক অত্যাচার করে হত্যা
করেছিল। এই ঘটনার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তারা বিবি নীলকুঠির সাহেবদের আস্তানায় গিয়ে
ভালবাসার অভিনয় করে, মদের সাথে বিষ মিশিয়ে নীলকর ইংরেজদের হত্যা করে। পরে তারা
বিবি নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এই সাহসী কুমারী তারা বিবির নামানুসারেই এই গ্রামের
নামকরণ হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন